নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন;

কক্সবাজারে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত স্থল ও জলপথ চিহ্নিত করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন, নৌপথে টহল জোরদার এবং মাদক বহনে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের হিল ডাউন সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নবিষয়ক সভা’ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষভাবে তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তিনি বলেন, “মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের শনাক্ত করে টাস্কফোর্স একটি তালিকা প্রস্তুত করবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, ইয়াবার বিস্তারের কারণে দেশের যুবসমাজ মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাই মাদকের বিস্তার রোধকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সভায় জানানো হয়, কক্সবাজারের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক চোরাচালানের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদক ব্যবসার মূল হোতা, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ক্যারিয়ার—সব স্তরের সংশ্লিষ্টদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত তালিকা তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত রুটগুলো চিহ্নিত করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থলপথের পাশাপাশি জলপথেও বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত রুটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে জলপথে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানো হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু মাদক বহনকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর জন্য অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী এবং মূল কারবারিদের শনাক্ত করে পুরো নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সরকারের নতুন উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সভায় কক্সবাজারের সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় মাদক চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুই দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজারে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সফরের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন।